তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা রোববারের পরিবর্তে মঙ্গলবার ব্যাংক বন্ধ রাখার পক্ষে ছিলেন। তাদের যুক্তি টানা তিনদিন ব্যাংক বন্ধ থাকলে গ্রাহক সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ব্যাংক বন্ধ থাকলে তেমন সমস্যা হতো না।
রোববার ব্যাংক বন্ধ রাখার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমকে জানান, মূলত যেসব দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে, সেসব দেশগুলোতে শনি ও রোববার ছুটির দিন। এর ফলে আমাদের দেশের ব্যাংক খোলা থাকলেও রোববার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় না। তাই ছুটির জন্য রোববারকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় অংশই আমেরিকান ডলারে সম্পন্ন হয়। এরপরই পাউন্ড, ইউরো, জাপানিজ ইয়েন, চীনের রেনমিনবিতে লেনদেন নিষ্পন্ন হচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক লেনদেনগুলো নিষ্পত্তি হয় মূলত বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, দুবাইভিত্তিক মাশরেক, হাবিব আমেরিকানসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রতিটি মুদ্রার লেনদেন নিষ্পত্তিতে নির্দিষ্ট দেশে ব্যাংক খোলা থাকতে হয়। অথচ এসব দেশের ব্যাংকগুলো রোববার বন্ধ থাকে। ফলে বাংলাদেশে কেউ লেনদেন করতে চাইলেও সেই লেনদেন সম্পন্ন হয় না। সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এ কারণে দেশে রোববার ব্যাংক বন্ধ থাকলেও বড় কোনো সমস্যা নেই।
এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজকের মৃত্যু নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪১৯ জনে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৮৭৪ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১০ লাখ ২১ হাজার ১৮৯ জনে। রোববার (১১ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৩৬২ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫০১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হাজার ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
এর আগে গতকাল ১০ জুলাই দেশে সর্বোচ্চ ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও চলতি মাসেই ৯ জুলাই ২১২, ৮ জুলাই ১৯৯ জন, ৭ জুলাই ২০১ জন, ৬ জুলাই ১৬৩ জন, ৫ জুলাই ১৬৪ জন, ৪ জুলাই ১৫৩ জন, ৩ জুলাই ১৩৪ জন, ২ জুলাই ১৩২ এবং ১ জুলাই ১৪৩ জন করোনায় মৃত্যুবরণ করেন।