তিনি বলেন, আমাকে লিংকডইনের এপিআই হ্যাক করতে হয়েছে। ব্যবহারকারীদের তথ্যের জন্য একই সময়ে আপনি যদি অনেক বেশি রিকোয়েস্ট পাঠান, তবে এই সিস্টেম আপনাকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে দেবে।
অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) হচ্ছে একগুচ্ছ ফাংশনের সমষ্টি। এটি একটি ইন্টারফেস। যা কোন কম্পিউটার, লাইব্রেরি অথবা অ্যাপলিকেশন অন্য অ্যাপ্লিকেশনকে বিভিন্ন সার্ভিস দেওয়ার লক্ষ্যে বা ডাটা বিনিময়ের জন্য প্রদান করে। সাধারণত সফটওয়্যার প্রস্তুতকারক কোম্পানি এটি তৈরি করে। অন্য কোনো প্রোগ্রাম ওই সফটওয়্যারকে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করতে চাইলে এপিআইয়ের মাধ্যমে করা সম্ভব।
লিংকডইনের এপিআই সফটওয়্যারকে ধোঁকা দিতে হ্যাকার টম লিনার এমন একটি উপায় খুঁজে পেয়েছেন, যাতে কোনো রকমের সন্দেহ ছাড়াই তিনি বিপুল তথ্য হাতিয়ে নিতে পারছেন।
তথ্যভাণ্ডার বিক্রির এই ঘটনা প্রথম আবিষ্কার করে ভিপিএন সংগ্রহকারী প্রাইভেসি শার্ক। এটি সামাজিকমাধ্যমে থাকা অবাধ তথ্যের নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। এতে ব্যবহারকারীর পূর্ণ নাম, ইমেইল ঠিকানা, লিঙ্গ, ফোন নম্বর ও কর্মস্থলের তথ্য পাওয়া গেছে।
লিংকডইন বলছে, টম লিনার এপিআই সিস্টেম ব্যবহার করেনি। তবে তথ্য বেহাত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে সামাজিকমাধ্যমটি।
কিন্তু কথা হচ্ছে, এসব তথ্যভাণ্ডার থেকে হ্যাকাররা অর্থ উপার্জন করছে। ফলে সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়ছে। এসওএস ইন্টেলিজেন্সসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আমির হাজিপাসিক বলেন, এভাবে বিপুল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা হতাশাজনক। অধিকাংশ মানুষই চায় না, তাদের তথ্য পাবলিক ডোমেনে ছড়িয়ে পড়ুক। এ ক্ষেত্রে এপিআই সিস্টেম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন তিনি।
খারাপ কাজেও তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার হতে পারে বলে স্বীকার করেন টম লিনার। এ নিয়ে তার মধ্যে অস্বস্তিও রয়েছে। এরপরেও তিনি কেন এভাবে হ্যাকিং করে যাচ্ছে, তা বলেননি।