ওজন কমানোর রুটিন
পেট ভরে খান তবে একটু রুটিন মেনে খাওয়া-দাওয়া করুন। ডিম খেতে ভালবাসলে ডিম খান। তবে সেটা সিদ্ধ ডিম আর কুসুমটা খাওয়া ছাড়তে হবে। মাংস যাদের খুব পছন্দ তারা চর্বি ছাড়া মাংস কম তেলে রান্না করে সপ্তাহে একদিন খেতেই পারেন।
ওজন কমানোর খাবার কোনগুলো
মিষ্টি খাওয়াটা বাদ দিতে হবে। রোজ একটা করে ফল খান। মিষ্টি জাতীয় পানীয় খাওয়া ও বাদ দিতে হবে। যারা ভাত খেতে পছন্দ করেন, তারা ভাত খান তবে পরিমাণটা কমিয়ে নিন। ভাতের সেই পরিমাণে জায়গায় শাকসবজি খাওয়া ধরুন।
সবজির খোসা ফেলবেন না
সবজি খোসা সুদ্ধ খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে ফাইবার ও যেমন বেশি থাকে তেমন আবার পুষ্টি ও বেশি থাকে। ভারী খাবার খাওয়ার আগে যদি এক প্লেট স্যালাড খেয়ে নেন তাহলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকবে। মাছ মাংস ডিম আগের তুলনায় একটু কম খেয়ে তার জায়গায় ছোলা মটর ডাল সোয়াবিন ইত্যাদি খেতে শুরু করুন। এগুলি পুষ্টিকর যেমন তেমনি ক্যালরি ও কম।
ওজন কমানোর খাদ্য তালিকা
তৈলাক্ত মাছ ,অলিভ অয়েল , বাদাম, বীজ এগুলি অল্প অল্প করে খান। এগুলিতে ক্যালারি থাকলেও পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে। বাজার থেকে কিনে আনা খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। এতে ওজন কমে তো না উল্টে বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়।
হাঁটা
এই সমস্ত কিছু মেনে চলার পাশাপাশি একটু হাঁটাহাঁটি করার চেষ্টা করুন। মাঝে মধ্যে ঘরের টুকটাক কাজ করবার চেষ্টা করুন। এতে ওজন কমার কাজটি ত্বরান্বিত হবে। রাত্রে ঘুমানোর তিন ঘণ্টা আগে খাবারটি খেয়ে নিন। আর অবশ্যই রাত্রে এগারোটার মধ্যে ঘুমিয়ে পরবেন।
খাবারের পরিমাণ
একবারে বেশি পরিমাণে না খেয়ে বারবারই অল্প করে খেতে চেষ্টা করুন। আর যখনই ভাত জাতীয় কিছু খাবেন তার আগে এক গ্লাস জল খেয়ে নিন। এতে আপনার খাবার ইচ্ছাটাও কমে যাবে। আর ওজন বাড়ার ভয় থাকবে না।
ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট
সকালের প্রাতরাশ খাওয়াটা ভুলেও বাদ দেবেন না। সকালে হালকা কিছু খাবার। এরপর দুপুরে ডাল সাল্যাড দিয়ে অল্প পরিমাণ ভাত বা দুটো রুটি এর সাথে মাছ অথবা চিকেন অথবা ডিম অথবা দই খেতে পারেন।
বাদাম ও দানাজাতীয় খাবার থেকে যে ফ্যাট পাওয়া যায় তাকে বলা হয়ে মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট । এই ফ্যাট রক্ত থেকে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে ।
এছাড়াও প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করবেন কারণ শরীর থেকে বর্জ্য বের করে দিতে পানির ভূমিকা অসাধারণ । প্রতিদিন ১০-১২ গ্লাস পানি ওজন হ্রাসে সরাসরি ভূমিকা রাখে ।
মনে রাখা জরুরি, ডায়েট করতে গিয়ে খাদ্য তালিকা থেকে প্রোটিন ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট একবারে বাদ দিলে কিন্তু হিতে বিপরীত হবে। তাই ডায়েট মেনে চলার পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় প্রোটিন ফ্যাট কার্বোহাইড্রেট এর মত পুষ্টিকর উপাদান গুলি ও রাখবেন।
যে কোন ভাজা পোড়া খাবারই খুব সুস্বাদু এবং মুখরোচক। এসব মুচমুচে লবণাক্ত খাবারগুলি এতই মজাদার যে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনি অনেক খেয়ে ফেলতে পারেন। কিন্তু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং পটেটো চিপ্স, এই দু’টো খাবারেই আছে খুব বেশী পরিমাণে ক্যালরি যা আপনার ওজন খুব দ্রুত বাড়াতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে সার্ভিং হিসেবে গণনা করলে পটেটো চিপ্স সবচেয়ে বেশী ওজন বাড়ায়। এছাড়াও আলু ময়দাজাতীয় খাবার থেকেও দূরে থাকাই ভালো।