বিনোদন ডেস্ক ::
শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
‘ও আমার বন্ধু গো চিরসাথী পথ চলা,তোমার ই জন্য গড়েছি আমি মঞ্জিল ভালোবাসা’……
১৯৯৩ সালের সাড়া জাগানো ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করে আপামর দর্শকদের বিমোহিত করেছিলেন নবাগত সালমান শাহ ও মৌসুমী। এই ছবিতেই কন্ঠ সম্রাজ্ঞী রুনা লায়লার সাথে প্লেব্যাকে অভিষেক ঘটে এক তরুণ গায়কের,প্রথম প্লেব্যাকেই বাজিমাৎ। বাংলা সিনেমার গানের জগতে প্রবেশ করলো তারুণ্য যুগ,পরবর্তীতে বেশ কয়েক বছর ধরে প্লেব্যাকে সমধুর কন্ঠে দর্শকদের মুগ্ধ করা এই গায়ক হচ্ছেন আমাদের সবার সুপরিচিত কন্ঠশিল্পী ‘আগুন’।
‘আমার স্বপ্নগুলো কেন এমন মনে হয়,মনটা কেন বারবার ভেঙ্গে যায়’,প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর সুরে নিজের লিখা ও কন্ঠে ‘কত দু:খে আছি’ এলব্যামের এই গানটি গেয়ে নিজের প্রতিভার আরেকবার জানান দিয়েছিলেন তিনি। আধুনিক গানের ইতিহাসে এই গানটি এক ভিন্নমাত্রা যোগ করেছিল।
একাত্তরের মা জননী কিংবা ‘পৃথিবীতে সুখ বলে যদি কিছু থেকে থাকে’,সিনেমার এই গান গুলো জায়গা করে নিয়েছে কালজয়ী গানের তালিকায়। প্রথম সিনেমার দারুন সাফল্যের পরেই সালমান শাহর সাথে বেশ জনপ্রিয় জুটি তৈরি হয়। অন্তরে অন্তরে,তুমি আমার,বিক্ষোভ,সুজন সখি,জীবন সংসার সহ সালমানের প্রায় সব ছবিতেই তিনি বেশ কয়েকটি গান করেন।’মাথায় পড়েছি সাদা ক্যাপ,হাতে আছে অজানা এক রঙিন ম্যাপ’,হুমায়ূন আহমেদের ‘দুই দুয়ারী’ সিনেমার এক অবিস্মরণীয় গান এটি। আগুন জাতীয় পুরস্কার এই গান দিয়েই পেতে পারতেন কিন্তু পান নি। রিয়াজের লিপেই হৃদয়ের আয়না সিনেমার ‘কেন আঁখি ছলছল’ গানটাও বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। ‘মোর প্রিয়া হবে রানী দেবো খোঁপায় তারার ফুল’ এর মত ক্ল্যাসিক নজরুল গীতি নিজের কন্ঠের মাধুর্যতায় আপন করে নিয়েছেন।এছাড়া পাগল মন সিনেমার গানগুলো দর্শকমহলে বেশ সাড়া পায়।
‘ও আমার জন্মভূমি’ এখনো অনেক রাত সিনেমার এই গানের জন্য বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন। এই সিনেমাতেই তিনি প্রথম অভিনয় করেন।পরবর্তীতে ঘেটুপুত্র কমলা,৭১ এর মা জননী,অমি ও আইসক্রিমওয়ালা ছবিতে অভিনয় করেন। এছাড়া জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘রঙের মানুষ’ সহ অনেক নাটকেই অভিনয় করেছেন।
‘পুত কইরা দিমু আমি পুত কইরা দিমু’ ডিপজলের লিপে এই অশ্লীল গান সহ এইরকম গগান গেয়েই রোমান্টিক গানের সুপ্রতিষ্ঠিত গায়ক হয়েও যেন এক নিমিষেই হয়ে গেলেন চটুল অশ্লীল গানের গায়ক। পরপর বেশ কয়েকটা এইরকম গানে কন্ঠ দিতে থাকেন। এক সময় গ্রহণযোগ্যতা কমে যেতে থাকে,আর নিজেও অনিয়মিত হয়ে পড়েন প্লেব্যাক থেকে।
বিখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব খান আতাউর রহমান ও কন্ঠশিল্পী নীলুফার ইয়াসমিন দম্পতির একমাত্র ছেলে তিনি,কিংবদন্তি গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিন সম্পর্কে আপন খালা হন,আর রুমানা ইসলাম বোন হন। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে পরিচিত ছিলেন। আশির দশকের শেষে ‘স্যাডেন’ ব্যান্ডে যুক্ত হন,বছর পাঁচেক পর আবার ছেড়েও দেন। এখন পর্যন্ত ১৩টি এলব্যাম বেরিয়েছে,রবীন্দ্র সঙ্গীত ও গেয়েছেন।
বাংলা সিনেমার গানের জগত থেকে ছিটকে পড়া এই গায়ক নিয়ে অনেকের ই আছে আক্ষেপ,আফসোস।