1. joyantagoswami7165@gmail.com : Joyanta Goswami : Joyanta Goswami
  2. faisalyounus1990@gmail.com : Developer :
  3. newspointsylhet@gmail.com : News Point : News Point
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

শফিক আহমদ শফি

বুধবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২

সংকটে শাবি: অভিভাবক শুন্যতায় সিলেট


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ ও সহকারী প্রাধ্যক্ষদের পদত্যাগ, হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করে সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত এবং ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রাধ্যক্ষ কমিটি নিয়োগের দাবিতে আজ ৫ম দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত সিলেটের কোন সুধি সমাজের পক্ষ থেকে শাবিপ্রবি’র সংকট নিরসনে কোন উদ্দোগ নেওয়া হয়নি। অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দলীয় নেতৃবৃন্দসহ অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সংকট নিরসনে যেভাবে এগিয়ে এসেছিলেন, বর্তমানে তা এখনও পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে এ সংকট আরও কঠিন থেকে কঠিনতর হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে অভিভাবক শুন্যতায় সিলেটবাসী আজ উদ্বিগ্ন। জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলন শুরু করেন শাবিপ্রবি’র হলের ছাত্রীরা। পরদিন শুক্রবার ও শনিবার পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ছিল।শনিবার সন্ধ্যায় ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ হামলা চালায় বলে- অভিযোগ উঠে। এরপর থেকে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে যায়। প্রাধ্যক্ষ ও সহকারী প্রাধ্যক্ষ পদত্যাগ আন্দোলনটি চলে যায় উপাচার্য পর্যন্ত। রোববার বিকেলে শিক্ষার্থীরা শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকেঅবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তাকে উদ্ধারে মাঠে নামে সিআরটি টিম। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- ভিসির নির্দেশেই পুলিশ রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করে তাদের উপর। অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হতে থাকে। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রসংগঠন উস্কানি দিতে থাকে।পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিক সিন্ডিকেট সভা বসে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়- বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে। সোমবার সারা দিন ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে শিক্ষার্থীরা। ৪ দিন পর সোমবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগ। তাদের দেখতে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। তিনি আহতদের খোঁজ খবর নেন। এসময় ফোনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকও কথা বলেন শিক্ষার্থীদের সাথে। শাবির ঘটনা দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি ছাত্রদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরে হাসপাতালে যান জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এড. নাসির উদ্দিন খান সহ নেতৃবৃন্দ। পরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন দু:খ প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের সহিংসতার পথে না যেতে অনুরোধ করেছেন। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর লোগো সম্বলিত গাড়ি নিয়ে ড্রাইভারসহ তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদেরকে ক্যাম্পাসে যেতে দেন। তখন একজন নিজেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএ পরিচয় দিয়ে বলেন, শাবির ঘটনায় তিনি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন) দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক এবং সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে ব্যবস্থা নেবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ও জলকামান সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও নিবেন তিনি। এছাড়া, শাবি শিক্ষার্থীদের সহিংসতার পথে না যাওয়া আহ্বান জানান। আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিবেন বলে ঐ মুখপাত্র জানান। এদিকে রাত পৌনে একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ও জলকামান সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে শিক্ষার্থীরা তখনও ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন। পর্যায়ক্রমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও আহতদের পাশে দাঁড়ান। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাবি ক্যাম্পাসে যায় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনের নেতৃত্বে শাবিতে যান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ও কার্যনির্বাহী সদস্য জুমাদিন আহমদসহ নেতৃবৃন্দ। এসময় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্বতা পোষন করেন। নাম মাত্র কর্মসূচির মাধ্যমে সিলেট ছাত্রদল একটি মিছিল করলেও বিএনপিকে দেখা যায়নি কোন কর্মসূচিতে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর তো কোন খবরই নেই। সিলেটের সর্ববৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাবিপ্রবির এ বর্তমান সংকটে নিরসনে ডান বামসহ সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে একাত্ম হয়ে উদ্দোগ গ্রহন করতে হবে। নতুবা সিলেটের আগের সেই সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ নতুন প্রজন্মের কাছে শুধুই ইতিহাস হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত দিন
এই বিভাগের আরও খবর

সিলেটের সর্বশেষ
© All rights reserved 2020 © newspointsylhet