১৪ বছর ধরে কারাগারের কনডেম সেলে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন স্বপন কুমার বিশ্বাস। প্রথম স্ত্রী স্বপ্না ঘোষকে হত্যার দায়ে ২০০৮ সালে ফাঁসির রায় হয় তার। যে রায় বহাল থাকে হাইকোর্টেও। কিন্তু আর্থিক সংকটে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারছিলেন না স্বপন।
কনডেম সেলে নিজের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা লিখে চিঠি পাঠান সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের কাছে। আকুতি জানান বিনা পয়সায় তার হয়ে মামলা পরিচালনার। কারাবন্দি স্বপনের চিঠি পেয়ে আইনি সহায়তার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, একটা অসহায় মানুষ ১৪ বছর ধরে ফাঁসির সেলে রয়েছেন এবং তার চিঠি খুবই করুণ। আগে তার সবকিছু ছিল, এখন সব হারিয়ে গেছে।
শুনানি শেষে আদালত স্বপনকে দ্রুত সাধারণ সেলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কমানো হয় মৃত্যুদণ্ডের সাজা।
সহায়তাকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, সব দলিল-দস্তাবেজ বিবেচনা করায় তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা রূপান্তর করা হয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেব ঘোষ বলেন, জেলে হাজতবাসকালীন যে সময়; সেখান থেকে সে মুক্ত পাবে এবং কনডেম সেল থেকে তাকে রেগুলার সেলে নিয়ে আসা হবে।
বিনা পয়সায় মামলা পরিচালনা করায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের ধন্যবাদ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। গরিব-অসহায় বিচারপ্রার্থীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে আইনজীবীদের অনুরোধ জানানো হয়।