1. [email protected] : Joyanta Goswami : Joyanta Goswami
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : News Point : News Point
বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

নিউজ পয়েন্ট সিলেট

রবিবার, ২৩ মে, ২০২১

১০০ প্যাকেট খাদ্য সহায়তা দিয়ে বিপাকে ফ‌রিদ আহ‌মে‌দের পরিবার


জাতীয় হটলাইন ৩৩৩নম্বরে ফোন দিয়ে খাদ্য সহায়তা চেয়ে হয়রানি করার অভিযোগে শাস্তি হিসেবে ১০০ গরীব পরিবারকে খাদ্য সহায়তা করতে বিপাকে পড়েছেন ফরিদ আহমেদ ।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বেধে দেয়া ১০০ প্যাকেট খাদ্য সহায়তার প্যাকেটে সহায়তা না করলে তিন মাসের জেল হবে-এই ভয়ে চড়া সুদে ঋণ করে ও সোনাগয়না  বন্ধ রেখে  টাকা জোগাড় করে খাদ্য সামগ্রী ক্রয় করে এসব খাদ্য সহায়তার প্যাকেট  তৈরি করেন।  শনিবার বিকেলে উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার  কাছে গুনে গুনে ১০০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট বুঝিয়ে দেন।

শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের দেওভোগ এলাকায় ফরিদ আহমেদের বাড়ির সামনে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন ইউএনও আরিফা জুহুরা। খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেটের মধ্যে ছিল (৫ কেজি চাল, এক কেজি লবন, আলু, পেয়াজ, তেল)।

ইউএনওর হাতে খাদ্য সহায়তা প্রদান করে ফরিদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, গত বুধবার আমি এফএম রেডিও’র মাধ্যমে জানতে পারি সরকারী ৩৩৩ নম্বরে ফোন করলে সরকার খাদ্য সহায়তা প্রদান করবে। এই কারণে আমি ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে খাদ্য সহায়তা চাই। তিনি বলেন, ‘এই চার তলা বাড়িটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমরা ৬ ভাই এবং এক বোন  উত্তরাধিকারী সূত্রে এই বাড়ির মালিক।’ তিনি তিন তলার ওপর ছাদে টিনশডে দুটি রুম  ও নিচ তলায় একটি রুম  পেয়েছেন। অন্যগুলো বাকী পাঁচভাই বসবাস করেন। তিনি মাসুদ আহমেদ নামের একটি হোসিয়ারী কারখানায় ১২ হাজার টাকা বেতনে কাটিংয়ের কাজ ও দেখাশোনা করেন। তাঁর এক ছেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এবং তিনি নিজেও স্ট্রোক করেছেন ।

ফরিদ আহমেদ আরও বলেন,আমার খাদ্য প্রয়োজন ছিল বলেই ফোন করেছি। পর দিন উপজেলা থেকে খাদ্য সহায়তা করা হবে জানান। তাঁর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় কাশিপুর ইউনিয়নে পরিষদের (ইউপি) সদস্য আইয়ুব আলী আমাকে ডেকে নিয়ে বলেন আপনি এই খাদ্য পাওয়ার উপযুক্ত নন। আপনি স্বাবলম্বী , চার তলা বাড়ির মালিক। এই কথা বলে আমাকে নানাভাবে ধমকাতে থাকেন। পরে আমি বলি আমি যদি এই খাদ্য সহায়তা পাওয়ার উপযোগি না হই, কল করে আমি ভুল করেছি। পরে আমি ভুল স্বীকারও করেছি। তাঁর কিছুক্ষণ পর ইউএনও স্যার আসেন এবং আমাকে ডেকে নিয়ে নানা প্রশ্ন করার পর ১০০ মানুষকে খাদ্য সহায়তা করার জন্য নির্দেশ দেন। এসময় ইউএনও স্যার চলে যাওয়ার পর ইউপি সদস্য সহ অনেক খাদ্য সহায়তা করা না হলে  তিন মাসের সাজা হবে বলে জানানো হয়।

এদিকে ইউএনওর কাছে ১০০ প্যাকেট খাদ্য সহায়তা তুলে দেয়ার পর ফরিদ আহমেদের স্ত্রী হিরণ বেগম জানান, গত দু’দিন বহু চেষ্টা চালিয়ে স্বামীকে জেলের হাত থেকে বাঁচাতে আত্মীয়স্বজনের সোনার গয়না  বন্ধক রেখে চড়া সুদে ঋন করে এবং ইউপি সদস্য আইযুব আলীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নিয়ে মোট ৬৫ হাজার টাকার খাদ্য সামগ্রী কিনতে হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের পরিবার নিজেরাই চলতে পারি না। প্রতিবন্ধী ছেলে পুরো পরিবার এমনিতেই আমরা সংকটে বলতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

ছোট ভাই সেলিম খানের স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, বড় ভাসুর ফরিদ আহমেদ ব্রেন স্ট্রোক করেছেন। যে কারণে তিনি গুছিয়ে কথা বলতে পারেন না। তাঁর মানসিক সমস্যাও রয়েছে। গতরাতে তিনি দুই বার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। আমরা তাকে সারারাত পাহাড়া দিয়ে রাখি এবং টাকা পয়সা জোগাড় করতে সহায়তা করি।

তবে স্থানীয় এলাকাবাসীও ফরিদ আহমেদের পরিবারের এই শাস্তি মেনে নিতে পারেননি। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করে ফরিদ আহমেদকে ১০০ প্যাকেট খাদ্য সহায়তার বিষয়টি চাপিয়ে দিয়ে লঘু পাপের গুরু দন্ড দিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের উচিত ছিল আরও ভালো করে খোঁজ খবর নিয়ে তাকে এই দন্ড দেওয়া। তাঁরা জানান, ৩৩৩ খাদ্য সহায়তা চাওয়া ইউপি সদস্য ক্ষুদ্ধ হয়ে উপজেলা প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে এই কাজটি করেছেন।

ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী বলেন, ফরিদ আহমেদ ৩৩৩ খাদ্য সহায়তা পাওয়ার উপযুক্ত নন। তাদের চারতলা বাড়িতে তাঁরা সব ভাই-বোন মিলে মিশে থাকেন। তবে ফরিদ আহমেদের পক্ষে ১০০ প্যাকেট খাদ্য বিতরণ করার আর্থিক সঙ্গতি নেই। আমি উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি বার বার জানিয়েছি। করোনাকালীন সময়ে কাউকে এই শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে আমি নিজেও তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি ।

সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ( ইউএনও ) আরিফা জহুরা জানান,  কল করা ব্যক্তি খাদ্য সহায়তা পাওয়ার উপযুক্ত কিনা তা স্থাণীয় জনপ্রতিনিধির বা ইউপি সচিবের  মাধ্যমে যাচাই বাছাই করা হয়।  ওই ব্যক্তির ফোন পেয়ে খাদ্য সহায়তা নিয়ে তাঁর বাড়িতে যাওয়া হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী জানতে পারি তিনি চার তলা বাড়ির মালিক ও হোসিয়ারী কারখানাও রয়েছে তাঁর। তাঁর চার তলা বাড়ি ও হোসিয়ারী কারখানা রয়েছে কী না জানতে চাইলে তিনি তা স্বীকার করেন। তখন তাকে অযথা সরকারী লোকজনকে হয়রানির করার দায়ে তাকে শাস্তি হিসেবে ১০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানাই। খাদ্য সহায়তা করার জন্য  তাকে দুই দিন সময়ও দেয়া হয়। তিনি বলেন, তিনি নিজেই ওই সময়ে আমাকে জানিয়েছেন তিনি চার তলা বাড়ির মালিক ও ব্যবসা করেন।  কিন্তু দুই দিন সময় দেয়ার পর তিনি কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমাদের সাথে আর কোন যোগাযোগ করেননিভ । ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়নি, তাকে সরকারী কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টির দায়ে  তাঁর নিজের আশেপাশের ১০০ গরীব পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানালে তিনি তা করতে রাজী হন।

ইউএনও আরও বলেন, এখন ওই ব্যক্তির সর্ম্পকে যেসব বিষয় বা কথাবার্তা আসছে তিনি চার তলা পুরো বাড়ির মালিক একা নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি যদি সত্যিই খাদ্য সহায়তা পাওয়ার উপযোগী হন এবং তিনি যদি চান তাকে খাদ্য সহায়তা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার জাতীয় হটলাইন নম্বর ৩৩৩ ফোন করে খাদ্য সহায়তা চান সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের দেভোগ নাগবাড়ি এলাকার ফরিদ উদ্দিন। খাদ্য সহায়তা করতে গিয়ে উপজেলা প্রশাসনের লোকজন জানতে পারেন সাহায্য চাওয়া ওই ব্যক্তি চার তলা বাড়ির মালিক এবং তিনি হোসিয়ারী কারখানার মালিক। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আরিফা জহুরা ৩৩৩ ফোন করে অযথা হয়রানি ও সময় নষ্ট করার দায়ে তাকে শাস্তি হিসেবে দু’দিন পর শনিবার ১০০ গরীব লোককে খাদ্য সহায়তা করার নির্দেশ দেন।

আপনার মতামত দিন
এই বিভাগের আরও খবর

সিলেটের সর্বশেষ
© All rights reserved 2020 © newspointsylhet