1. [email protected] : Joyanta Goswami : Joyanta Goswami
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : News Point : News Point
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১১:৪০ অপরাহ্ন

নিউজ পয়েন্ট সিলেট

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সিলেটে চলছে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম


নিউজ পয়েন্ট ডেস্ক:: সিলেটে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে । গতকাল মঙ্গলবারও ৫০/৬০টি ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে। ই-পাসপোর্ট আবেদন সহজ এবং কাগজপত্র জমা দেয়ার তোড়জোড় নেই, নেই সত্যায়ন করার ঝামেলাও। শুধুমাত্র অনলাইন আবেদন ফরম সঠিকভাবে পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, আবেদনে প্রদেয় তথ্য, এনআইডি, জন্মনিবন্ধন বা পূর্বের পাসপোর্টের সাথে তথ্য বিভ্রাট হলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকে যাবে। তাই, সঠিক ও নির্ভুলভাবে ফরমপূরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ই-পাসপোর্টের জন্য যেকোন স্থান থেকে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে (www.epassport.gov.bd or www.dip.gov.bd ) আবেদন করা যাবে। সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ শেষে ফি জমা দিলেই পাসপোর্ট গ্রহীতার প্রধান কাজ শেষ হয়ে যাবে। ফরমপূরণ সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে ফরমপূরণ স্লিপেই জানিয়ে দেওয়া হবে কোন দিন তিনি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে তার প্রয়োজনীয় তথ্য দিবেন। পাসপোর্ট অফিসে ফরমপূরণ ও টাকা জমা দেয়ার স্লিপ ও প্রয়োজনীয় মূল কপি নিয়ে প্রদর্শন ও কাগজপত্র যাচাই বাছাই শেষে ছবি, ফিঙ্গারসহ বায়োমেট্রিক তথ্য নেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ই-পাসপোর্টের ফিঙ্গার ও আইরিশসহ সকল তথ্য দেয়ার সাথে সাথে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য তথ্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট অফিসে চলে যায়। ফলে পুলিশ ভেরিফিকেশন চিঠি পাঠানোর জন্য পূর্বের ন্যায় সময় নষ্ট হয় না। পূর্বে ৪/৫ ধাপে তথ্য লিপিবদ্ধ করার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য চিঠি পাঠানো হতো। এখন এই কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে।
তিনি বলেন, ই-পাসপোর্টে আগের মতো পেপার ওয়ার্ক নেই। আগে আবেদন গ্রহণ করতে যেমন অনেক কাগজপত্র গ্রহণ করতে হতো এবং ৪/৫ ধাপে লিপিবদ্ধ করতে হতো। পাসপোর্ট বিতরণের জন্য একই ভাবে ৪/৫ ধাপে তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হতো। এখন পাসপোর্ট গ্রহণের সময় শুধু ডেলিভারি স্লিপ ও ফিঙ্গার নিয়েই পাসপোর্ট বিতরণ করা যাবে।
ই-পাসপোর্টের আবেদনের জন্য ফরমপূরণ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ফরমপূরণের সময় প্রদেয় তথ্য, এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও পূর্বের যদি পাসপোর্ট থাকে তার সাথে তথ্যের হুবহু মিল থাকতে হবে। কোন ভুল থাকলে ই-পাসপোর্ট সংক্রিয়ভাবে আটকে যাবে এবং পাসপোর্ট প্রত্যাশিকে দীর্ঘসূত্রিতায় পড়তে হবে। পাসপোর্টের অধিকাংশ ভুল এই সংক্রান্ত হয়ে থাকে বলে জানান তিনি। তবে বসয় ১৮ বছর হলে অবশ্যই এনআইডি এবং ১৮ এর নিচে হলে জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট লাগবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, অনেকে ফরমপূরণের পর বুঝতে পারেন তার আবেদনটি ভুল হয়েছে। তখন তিনি আবার ফরমপূরণ করলে তার দুটি আবেদনই আটকে যায়। তখন তিনি অফিসে এসে দৌড়াদৌড়ি করেন। মূলত কোন নামে আবেদন করার পর তার একটি ‘এক্সিট টাইম’ দেয়া হয়। সেই সময় অতিক্রম হওয়ার পর একই নামে আবার আবেদন করা যায়। কিন্তু সাথে সাথে আবারো একই নামে আবেদন করলে দুইটিই আটকে যায়। তখন আবার নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হওয়ার পর আবেদন করতে হয় বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
গতকাল মঙ্গলবার সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়ে বেরিয়ে এসে সন্তোষ প্রকাশ করেন ব্যাংক কর্মকর্তা জুনেল আহমদ চৌধুরী। তিনি জানান, পাসপোর্ট আবেদন কার্যক্রম এখন অনেক সহজ মনে হচ্ছে। দ্রুত এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও এমআরপির মূলকপি দেখিয়ে, বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়ে বেরিয়ে এসেছেন। অনলাইনে আবেদনও সহজ জানিয়ে বলেন, ১০/১৫ মিনিটেই অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হয়েছে। ছবি ও কাগজপত্র সত্যায়নের ঝামেলা নেই। শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক নিয়মে নামের পূর্বের অংশ আগে এই অংশ নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছে। তিনি বলেন, ফরমের উপরের দিকে পূরণ করার পর নিচের দিকে গিয়ে ভুল বুঝতে পারলে উপরের দিকে আর সংশোধন করা যায় না। তাই কর্তৃপক্ষ সফটওয়ারের এই বিষয়টি সহজ করলে মানুষ আরো উপকৃত হতেন বলে জানান তিনি।
সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপ পরিচালক নুরুল হুদা জানান, মানুষ যাতে সহজে ও নির্বিঘ্নে ই-পাসপোর্ট করতে পারেন সে জন্য সিলেট পাসপোর্ট অফিস সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। অনেকেই নামের ক্ষেত্রে ভুল করছেন। কর্মকর্তাদের বলে দিয়েছি প্রথম প্রথম অনেকে ভুল করবেন, সময় লাগলেও তাদের সহযোগিতা করে ভুল সংশোধন করে দিতে কর্মকর্তাদের বলে দিয়েছি। কর্মকর্তারাও যতই সময় লাগুক প্রতিদিন সব কাজ শেষ করে যাচ্ছেন।
এদিকে, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ই-পাসপোর্টে মুঠোফোনের সিমের মতো ছোট ও পাতলা আকারের চিপ থাকে। আবেদনপত্র গ্রহণের সময় আবেদনকারীর ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের ছবি নেওয়া হয়। সেসব তথ্য চিপে যুক্ত থাকে। বিশেষ যন্ত্রের সামনে পাসপোর্টের পাতাটি ধরলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। তাদের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ই-পাসপোর্টের জন্য সাধারণ বা জরুরি উভয়ভাবেই আবেদন করা যায়। অতি জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে ২ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে।

আপনার মতামত দিন
এই বিভাগের আরও খবর

সিলেটের সর্বশেষ
© All rights reserved 2020 © newspointsylhet