1. [email protected] : Joyanta Goswami : Joyanta Goswami
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : News Point : News Point
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

নিউজ পয়েন্ট সিলেট

বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বজ্রপাত ঠেকাতে দেশে আসছে ‘রশ্মিদানব’


বজ্রপাতে সারা দেশে প্রাণহানির সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় একদল বিজ্ঞানী সুখবর দিয়েছেন। তারা ২০ বছর ধরে কাজ করে বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণে সক্ষম এক রশ্মি আবিষ্কার করেছেন। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘রশ্মিদানব’।

ছবিঃ সংগৃহীত

সম্প্রতি জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এ প্রযুক্তি আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা সিএনএনএর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত জুন মাসে সামাজিক সংগঠন ‘সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম-এসএসটিএএফ’র সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সারা দেশে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ১৭৭ জনের এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৪৭ জন। আর বজ্রপাতের নতুন হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা।
এসএসটিএএফ জানায়, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন মাসে বজ্রপাতে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৪৯ ও নারী ২৮ জন। তাদের মধ্যে শিশু-কিশোর রয়েছে ২২ জন। মৃত্যুর পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যে বজ্রপাতে আহত হয়েছেন ৪৭ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪০ ও নারী ৭ জন।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু কৃষিকাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণহানি হয়েছে ১২২ জনের। আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মারা গেছে ১৫ জন। ঘরে অবস্থানকালেও বজ্রপাতে ১০ জন মারা গেছেন।

এ ছাড়া নৌকায় মাছ ধরার সময় ৬ জন, মাঠে গরু আনতে গিয়ে ৫ জন, মাঠে খেলার সময় ৩ জন, বাড়ির আঙিনায় বা উঠানে ৬ জন, ভ্যান/রিকশা চালানোর সময় ২ জন এবং গাড়ির ভেতরে অবস্থানের সময় একজনের মৃত্যু হয়।
সংগঠনটি জানায়, চলতি বছর বজ্রপাতের নতুন হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা। এ জেলায় চলতি বছরের মে এবং জুন মাসেই মারা গেছেন অন্তত ১৮ জন। এ ছাড়া একই সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬ জন, জামালপুরে ১৪ জন, নেত্রকোনায় ১৩ ও চট্টগ্রামে ১০ জন মারা গেছেন।

এমন ভয়ংকর পরিসংখ্যানের মধ্যে বিজ্ঞানীরা এ সুখবর দিলেন। বিজ্ঞানীদের এ আবিষ্কারের নৈপথ্যে ছিলেন সুইস পদার্থবিজ্ঞানী জিন পিয়েরে উলফ।
তিনি বলেন, ‘লেজার খুব সংকীর্ণ, উচ্চশক্তির আলোর বিম তৈরি করে। এটির প্রয়োগে হীরা কাটা থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন হয়ে আসছিল। এবার এটি আমাদের বজ্রপাত থেকে রক্ষা করবে।’
মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এক বছর বিলম্বের পর গত জুলাই মাসে লেজারটি সুইস আল্পসের একটি পর্বতের চূড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার উচ্চতা ৮ হাজার ২০০ ফুট।
উলফ বলেন, ‘এটি ইউরোপের অন্যতম জায়গা যেখানে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়। এখানে একটি রেডিও ট্রান্সমিশন টাওয়ার রয়েছে যেখানে বছরে ১০০ থেকে ৪০০ বার আঘাত হানে বজ্র। তাই আমাদের ধারণা, প্রমাণ পরীক্ষা করার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।’
লেজার একটি বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করে উল্লেখ করে তিনি জানান, এটি সরাসরি তাদের পরমাণু থেকে ইলেকট্রন ছিঁড়ে ফেলে এবং বজ্রপাত গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় বিপরীত চার্জ স্থাপন করে।
উলফ বলেন, ‘ধারণা হচ্ছে আমাদের উদ্ভাবিত লাইটনিং রডের মাধ্যমে মেঘকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’
তিনি আশা করে বলেন, লেজারটি অবশ্য মাটিতে একটি বৃহত্তর এলাকা রক্ষা করতে সাহায্য করবে, যদিও তিনি এখনো বলতে পারেন না কতটুকু এলাকা।
উলফ জানান, ‘মূলত আমরা বজ্রঝড় আনলোড করব, তার ভোল্টেজ্রকমাব এবং তার পরে আশপাশের এলাকায় আরও বজ্রপাত প্রতিরোধ করব।’
তিনি আরও জানান, এ প্রযুক্তির সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবহারিক প্রয়োগ হবে রকেট রক্ষা করা।
আপনার মতামত দিন
এই বিভাগের আরও খবর

সিলেটের সর্বশেষ
© All rights reserved 2020 © newspointsylhet