1. [email protected] : Joyanta Goswami : Joyanta Goswami
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : News Point : News Point
শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

নিউজ পয়েন্ট সিলেট

রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০

পুলিশের নির্যাতনে সিলেটে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, স্থানীয়দের বিক্ষোভ


নিউজ পয়েন্ট প্রতিবেদক::  সিলেটে পুলিশের নির্যাতনে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ রোববার ভোরে রায়হান উদ্দিন (৩৩) নামের ওই যুবক মারা যান। তিনি নগরীর আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। ভোরে সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে রায়হানের পরিবারের কাছে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তাদের।

এদিকে, রায়হান হত্যার প্রতিবাদে আজ বিকালে নগরীর আখালিয়া এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এলাকাবাসীরও অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে খুন হয়েছেন রায়হান।

মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) এই তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন।

রায়হান উদ্দিনের বাবা নেই। বাবার মৃত্যুর তার মাকে বিয়ে করেন চাচা হাবিবুল্লাহ। তবে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রায়হান থাকেন আলাদা বাসায়। দুই মাস বয়সী এক মেয়ে রয়েছে তার।

রায়হানের পরিবারের সদস্যরা জানান, নগরের মিরের ময়দান এলাকায় শাহজালাল ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে এক চিকিত্সকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন রায়হান। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত ১০টার দিকে অফিস শেষে বাসায় ফেরেন। খাওয়া দাওয়ার পর ১১টার দিকে বাসার সামনের রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করতে বের হন। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি।

রায়হান উদ্দিনের চাচা হাবিবুল্লাহ বলেন, রোববার ভোর ৪টার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে আমাকে ফোন দেয়া হয়। ফোন ধরার পর কথা বলে রায়হান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকে ‘আমারে বাঁচাওরেবা। আমারে বাঁচাও।’ এরপর আমি তার অবস্থান জানতে চাইলে সে জানায়, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আছে। এসময় ফাঁড়িতে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে বলে রায়হান।

হাবিবুল্লাহ বলেন, ফোন পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। তখন সেখানে অবস্থানরত একজন বলেন, সে (রায়হান) ঘুমিয়ে পড়েছে। এখন দেখা করা যাবে না।

এরপর পার্শ্ববর্তী কুদরতউল্লাহ মসজিদে নামাজ পড়ে সকালে আবার পুলিশ ফাঁড়িতে যান উল্লেখ করে হাবিবুল্লাহ বলেন, ফাঁড়িতে যাওয়ার পর একজন লোক আমাকে বলেন, ‘আপনার ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথা ছিল। টাকা এনেছেন?’ কিছু টাকা এনেছি জানানোর পর তারা আমাকে বসিয়ে রাখেন। এরপর ১০টার দিকে বলেন, ‘আপনার ছেলের শরীর খারাপ করেছিল। তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওসমানী হাসপাতাল গিয়ে তাকে দেখতে পারবেন।’

হাবিবুল্লাহ বলেন, এরপর আমি ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পাই হিমঘরে রায়হানের মরদেহ পড়ে আছে। পুলিশই নির্যাতন করে রায়হানকে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ করে হাবিবুল্লাহ।

ওসমানী হাসপাতালের নিবন্ধন শাখা সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রায়হানের মরদেহ ওসমানী হাসপাতালে আনা হয়।

বন্দরবাজার ফাঁড়ি নগরের কতোয়ালি মডেল থানার অধীনে। এই থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম মিঞা ছুটিতে আছেন। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানান, ভোরে কাষ্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে আহত হন রায়হান। যিনি একাধিক ছিনতাই মামলার আসামি। পুলিশ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

কাষ্টঘরের কোন জায়গা থেকে রায়হানকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং কারা উদ্ধার অভিযানে ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের (গণমাধ্যম) সঙ্গে কথা বলুন।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, পরিবারের অভিযোগটি আমরাও শুনেছি। পুরো বিষয়টি উপ-কমিশনারের (উত্তর) নেতৃত্বে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসলে কোন জায়গা থেকে কারা রায়হানকে উদ্ধার করেছে তাও তদন্তে বের হয়ে আসবে।

কাষ্টঘর এলাকার এক আইজীবী বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পাই কাষ্টঘর পূজামণ্ডপের পাশে আমার বাসার সামনে অনেক পুলিশ। তখন পুলিশ জানায়, এই এলাকায় গণপিটুনিতে একজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আমরা কেউই গণপিটুনির বিষয়টি টের পাইনি।

কাষ্টঘর এলাকা নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম বলেন, আমি এলাকার অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। কেউই গণপিটুনির বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন। ভোরের দিকে এমন কিছু তারা শোনেননি বলেও জানিয়েছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, পুলিশ ফাঁড়ি থেকে রায়হানের পরিবারকে ফোন দেয়া ও টাকা দাবি করার অভিযোগ পেয়ে আমরা তদন্তে নেমেছি। এই ঘটনার পেছনে পুলিশের কেউ দায়ী থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত দিন
এই বিভাগের আরও খবর

সিলেটের সর্বশেষ
© All rights reserved 2020 © newspointsylhet